আপনার পরিবারের জন্য ডিপ ফ্রিজের দরকার হতেই পারে। আপনার পরিবারের সদস্য অনুযায়ী আপনি ওয়ালটন এর ডিপ ফ্রিজ পছন্দ করতে পারেন ।
কোরবানির ঈদের মাংস রাখা হোক, কিংবা সারামাসের বাজার করে মাছ-মাংস জমিয়ে রাখা আমাদের মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোতে একটা ডিপ ফ্রিজ থাকা এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং খুবই দরকারি একটা জিনিস।
কিন্তু সমস্যা হলো, দোকানে গেলে এত এত মডেল আর সাইজ দেখে মাথা ঘোরে। বিশেষ করে ২০২৬ সালে এসে জিনিসের দাম যেমন বাড়ছে, তাতে বাজেটের সাথে মিল রেখে সঠিক ফ্রিজটা কেনা বেশ কঠিন মনে হয়। কোন সাইজের হলে ভালো হয়, কোন সাইজের কত দাম বিস্তারিত থাকছে আজকের এই পোস্টে।
নিচে ওয়ালটন ডিপ ফ্রিজের দাম তুলে ধরা হলো। অবশ্যই এই দাম ওয়ালটন এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া হয়েছে। তাই যেকোনো সময় তারা দাম পরিবর্তন করতে পারে, কেনার পূর্বে অবশ্যই ভালোভাবে দাম যাচাই-বাছাই করে নিবেন ।
ক্রম
ফ্রিজের মডেল
দাম (টাকা)
1
WCF-1D5-GDEL-LX
Tk.31,990
2
WCF-1D5-GDEL-XX
Tk.31,490
3
WCF-1D5-GELE-DL
Tk.32,690
4
WCF-1D5-RRXX-XX
Tk.29,290
5
WCF-1B5-GDEL-XX
Tk.28,990
6
WCF-2T5-GDEL-GX
Tk.38,090
7
WCF-2T5-GDEL-XX
Tk.37,090
8
WCF-2T5-RRLX-XX
Tk.36,090
9
WCF-2T5-RRLX-GX
Tk.36,590
10
WCF-2A0-GSRE-XX-P
Tk.38,790
11
WCF-2A0-GSRE-XX-P (INVERTER)
Tk.40,990
12
WCG-2E5-EHLC-XX
Tk.38,990
13
WCG-2E5-EHLX-XX
Tk.39,690
14
WCG-2E5-EHLX-XX (INVERTER)
Tk.40,690
15
WCG-2E5-GDEL-DD
Tk.43,790
16
WCG-2E5-GDEL-DD (INVERTER)
Tk.43,990
17
WCG-2E5-GDEL-GX
Tk.42,390
18
WCG-2E5-GDEL-XX
Tk.42,190
19
WCG-2E5-GDEL-XX (INVERTER)
Tk.42,690
20
WCG-2E5-GDLC-XX
Tk.41,390
21
WCG-2E5-GELE-CX
Tk.44,990
22
WCG-3J0-DDGE-XX
Tk.45,990
23
WCG-3J0-DDXX-XX
Tk.44,390
24
WCG-3J0-GDDB-XX (INVERTER)
Tk.46,990
25
WCG-3J0-RXLX-GX
Tk.46,490
26
WCG-3J0-RXLX-XX
Tk.44,790
27
WCG-3J0-RXLX-XX (INVERTER)
Tk.45,390
28
WCG-2G0-CGXX-XX
Tk.55,990
কেন ওয়ালটন ডিপ ফ্রিজ সবার প্রথম পছন্দ?
আমাদের দেশে ফ্রিজ মানেই যেন ওয়ালটন। এর বেশ কিছু বাস্তব কারণ আছে:
দাম হাতের নাগালে: অন্য যেকোনো বিদেশি ব্র্যান্ডের চেয়ে ওয়ালটনের দাম বেশ কম।
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী: এদের ইনভার্টার প্রযুক্তির কারণে মাস শেষে কারেন্ট বিল অনেক কম আসে।
সার্ভিসিং সুবিধা: দেশের আনাচে-কানাচে এদের সার্ভিস সেন্টার আছে। ফ্রিজ নষ্ট হলে মেকানিক খুঁজতে হয় না।
পার্টস পাওয়া সহজ: যেকোনো পার্টস খুব সহজেই হাতের কাছে পাওয়া যায়।
২০২৬ সালে ওয়ালটন ডিপ ফ্রিজের দাম কত?
চলুন, এবার মূল কথায় আসি। পরিবারের সাইজ আর দরকার অনুযায়ী ওয়ালটনের বিভিন্ন লিটারের ফ্রিজ রয়েছে। নিচে আমি জনপ্রিয় মডেলগুলোর দামের একটা ধারণা দিচ্ছি। (মনে রাখবেন, শোরুম বা অফার অনুযায়ী দাম কিছুটা কম-বেশি হতে পারে)।
ওয়ালটন ডিপ ফ্রিজ 50 লিটার দাম
যাদের পরিবারে মানুষ মাত্র ২-৩ জন, বা যারা শুধু অল্প কিছু মাছ-মাংস আলাদা করে রাখতে চান, তাদের জন্য ৫০ লিটারের ফ্রিজ একদম পারফেক্ট। এটি জায়গায় খুব কম নেয়। বর্তমানে ওয়ালটন ডিপ ফ্রিজ 50 লিটার দাম পড়বে আনুমানিক ১৪,০০০ থেকে ১৫,৫০০ টাকার মধ্যে। ছোট ফ্যামিলির জন্য বা ব্যাচেলরদের জন্য এটা দারুণ একটা অপশন।
ওয়ালটন ডিপ ফ্রিজ 100 লিটার দাম
আপনার ফ্যামিলিতে যদি ৩-৪ জন মানুষ থাকে, তবে ১০০ লিটারের ফ্রিজটি দেখতে পারেন। এটি খুব বেশি বড়ও না, আবার একদম ছোটও না। ২০২৬ সালের আপডেট অনুযায়ী, ওয়ালটন ডিপ ফ্রিজ 100 লিটার দাম সাধারণত ১৯,০০০ থেকে ২০,৫০০ টাকার আশেপাশে থাকে।
ওয়ালটন ডিপ ফ্রিজ ১৪৫ লিটার দাম ও 150 লিটার দাম
মাঝারি পরিবারের জন্য সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া সাইজ হলো ১৪৫ থেকে ১৫০ লিটার। কোরবানির মাংস রাখার জন্য এটা বেশ ভালো কাজে দেয়। বাজারে ওয়ালটন ডিপ ফ্রিজ ১৪৫ লিটার দাম প্রায় ২৩,০০০ থেকে ২৪,৫০০ টাকা। আর আপনি যদি একটু বড়টা নেন, অর্থাৎ ওয়ালটন ডিপ ফ্রিজ 150 লিটার দাম পড়বে মোটামুটি ২৪,৫০০ থেকে ২৫,৫০০ টাকার মতো।
ওয়ালটন ডিপ ফ্রিজ 200 লিটার দাম ও 205 লিটার
যাদের পরিবার একটু বড়, ৫-৬ জন মানুষ, তাদের জন্য ২০০ বা ২০৫ লিটারের ফ্রিজ লাগবেই। এখানে অনেক খাবার একসাথে রাখা যায়। বর্তমানে ওয়ালটন ডিপ ফ্রিজ 200 লিটার দাম শুরু হয় ২৮,০০০ টাকা থেকে। আর যদি ইনভার্টার মডেল বা একটু লেটেস্ট ডিজাইনের ওয়ালটন ডিপ ফ্রিজ 205 লিটার নিতে চান, তবে বাজেট রাখতে হবে ২৯,০০০ থেকে ৩১,০০০ টাকার মতো। এই সাইজের ফ্রিজগুলো বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী হওয়ায় অনেকেই এটি পছন্দ করেন।
ওয়ালটন ডিপ ফ্রিজ 300 লিটার দাম
যাদের বড় জয়েন্ট ফ্যামিলি বা যাদের ছোটখাটো ব্যবসা আছে, তাদের জন্য ৩০০ লিটারের বিশাল ফ্রিজ দরকার। এখানে আপনি মাসের পর মাস খাবার জমিয়ে রাখতে পারবেন। বাজারে ওয়ালটন ডিপ ফ্রিজ 300 লিটার দাম পড়বে প্রায় ৩৬,০০০ থেকে ৩৯,০০০ টাকার ভেতরে। বড় ফ্রিজ হলেও ওয়ালটনের কুলিং সিস্টেম অনেক ভালো হওয়ায় খাবার একদম ফ্রেশ থাকে।
কিভাবে সঠিক ডিপ ফ্রিজটি বাছাই করবেন?
দোকানে গিয়ে হুট করে একটা ফ্রিজ কিনে ফেলা ঠিক নয়। কেনার আগে নিচের ৫টি ধাপ মেনে চললে আপনার টাকাটা সঠিক জায়গায় কাজে লাগবে:
ধাপ ১: পরিবারের সদস্য সংখ্যা হিসাব করুন আপনার পরিবারে মানুষ কতজন, সেটা আগে ভাবুন। ২-৩ জন হলে ১০০ লিটার, আর ৫-৬ জন হলে ২০০ লিটারের ফ্রিজ কিনুন।
ধাপ ২: ঘরের জায়গা মেপে নিন ফ্রিজটা ঘরের কোথায় রাখবেন? সেখানে পর্যাপ্ত জায়গা আছে কি না, তা আগে ফিতা দিয়ে মেপে নিন। ফ্রিজের পেছনে বাতাস চলাচলের জন্য অন্তত ৬ ইঞ্চি জায়গা ফাঁকা রাখতে হয়।[এখানে Screenshot দিন: ঘরের জায়গা মাপার বা ফ্রিজ বসানোর সঠিক নিয়মের একটি ডেমো ছবি]
ধাপ ৩: বাজেট ঠিক করুন আপনার পকেটে কত টাকা আছে, সেটা আগে ফিক্স করুন। উপরে আমি যে দামের লিস্ট দিয়েছি, সেটা দেখে আপনার বাজেটের সাথে মিলিয়ে নিন।
ধাপ ৪: ইনভার্টার প্রযুক্তি খুঁজুন চেষ্টা করবেন ইনভার্টার (Inverter) লেখা ফ্রিজ কিনতে। এগুলোর দাম শুরুতে একটু বেশি মনে হলেও, প্রতি মাসে কারেন্ট বিল অনেক কম আসে। তাই লম্বা সময়ের জন্য এটা লাভজনক।
ধাপ ৫: ওয়ারেন্টি কার্ড বুঝে নিন কেনার সময় অবশ্যই কম্প্রেসরের ওয়ারেন্টি কত বছরের সেটা দেখে নিবেন। ওয়ালটন সাধারণত কম্প্রেসরে ১২ বছরের ওয়ারেন্টি দেয়। মেমো আর ওয়ারেন্টি কার্ড যত্ন করে গুছিয়ে রাখবেন।
কেনার আগে যা যা চেক করবেন (চেকলিস্ট)
দোকানে গিয়ে ফ্রিজ ফাইনাল করার আগে এই বিষয়গুলো মিলিয়ে নিন:
ফ্রিজের বডিতে কোনো দাগ বা টোল খাওয়া আছে কি না।
দরজার রাবার (গ্যাসকেট) ঠিকমতো আটকে থাকে কি না।
ভেতরে কয়টা ঝুড়ি বা বাস্কেট দেওয়া আছে।
ফ্রিজের নিচে চাকা আছে কি না (চাকা থাকলে সরাতে সুবিধা হয়)।
কুলিং ফ্যান এবং লাইট ঠিকমতো কাজ করছে কি না।
যে ভুলগুলো ফ্রিজের বারোটা বাজায়
কিছু ভুল কাজের কারণে ফ্রিজ তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যায়। এগুলো থেকে সাবধান থাকবেন:
অতিরিক্ত খাবার ঠাসাঠাসি করা: ফ্রিজে এমনভাবে খাবার রাখবেন না যাতে ভেতরে বাতাস চলাচলের জায়গা বন্ধ হয়ে যায়।
ধারালো কিছু দিয়ে বরফ ভাঙা: বরফ জমে গেলে অনেকেই ছুরি বা খুন্তি দিয়ে বরফ খোঁচান। এটা মারাত্মক ভুল! এতে ফ্রিজের গ্যাস লিক হয়ে যেতে পারে। বরফ গলাতে হলে ফ্রিজ বন্ধ করে রাখুন।
ভোল্টেজ ওঠা-নামা: এলাকায় কারেন্টের খুব ডিস্টার্ব থাকলে অবশ্যই ভালো মানের একটি ভোল্টেজ স্ট্যাবিলাইজার ব্যবহার করবেন।
ওয়ালটন সাধারণত তাদের ডিপ ফ্রিজের কম্প্রেসরে ১২ বছরের গ্যারান্টি বা ওয়ারেন্টি দিয়ে থাকে। তবে মডেল অনুযায়ী এটা ভিন্ন হতে পারে, তাই কেনার সময় মেমোতে চেক করে নিবেন।
ইনভার্টার ফ্রিজ আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী কুলিং সিস্টেম কন্ট্রোল করে। ফলে কারেন্ট বিল প্রায় ৩০-৪০% কম আসে। তাই ইনভার্টার কেনাই বুদ্ধিমানের কাজ।
কিস্তিতে কি ওয়ালটন ফ্রিজ কেনা যায়?
হ্যাঁ, যায়। ওয়ালটনের প্রায় সব শোরুমেই ক্রেডিট কার্ড অথবা সাধারণ কিস্তির সুবিধা আছে। এ জন্য শোরুমে গিয়ে কথা বলতে হবে।
ওয়ালটন ডিপ ফ্রিজ 200 লিটার দাম আর ২০৫ লিটারের দামে কি অনেক পার্থক্য?
খুব বেশি পার্থক্য নেই। ২০৫ লিটারের মডেলগুলো সাধারণত একটু লেটেস্ট হয়। দামের পার্থক্য বড়জোর ১ থেকে ২ হাজার টাকার মতো হতে পারে।
পুরনো ফ্রিজ দিয়ে কি নতুন ফ্রিজ এক্সচেঞ্জ করা যায়?
ওয়ালটন মাঝে মাঝেই ‘এক্সচেঞ্জ অফার’ দেয়। তখন আপনার পুরনো নষ্ট ফ্রিজ জমা দিয়ে কিছুটা ডিসকাউন্টে নতুন ফ্রিজ কিনতে পারবেন। এই অফার চলছে কি না, তা তাদের ফেসবুক পেজ বা শোরুমে খোঁজ নিতে পারেন।
লেখকের শেষ কথা
আশা করি, ২০২৬ সালে ওয়ালটন ডিপ ফ্রিজের দাম কত, তা আজকের এই পোস্টে তা তুলে ধরা হয়েছে। ৫০ লিটার থেকে শুরু করে ৩০০ লিটার পর্যন্ত সব সাইজের দামই আমি তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। ফ্রিজ কেনার সময় শুধু দাম না দেখে, আপনার পরিবারের আসল প্রয়োজনটা বুঝবেন। আর হ্যাঁ, অবশ্যই ইনভার্টার মডেল নেওয়ার চেষ্টা করবেন, এতে করে আপনার ফ্রিজ দীর্ঘ দিন ধরে নিশ্চিন্তে চালাতে পারবেন।
আপনার মতামত জানান!
আপনার পরিবারে কয়জন সদস্য এবং আপনি কত লিটারের ফ্রিজ কেনার কথা ভাবছেন? নাকি আপনি আগে থেকেই ওয়ালটনের কোনো ফ্রিজ ব্যবহার করছেন? আপনার অভিজ্ঞতা কেমন, তা নিচে কমেন্ট করে আমাকে জানাতে পারেন। আপনার একটি কমেন্ট অন্য আরেকজন ক্রেতাকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে!
আমি মো: বেলাল একজন নিয়মিত বাজার বিশ্লেষক ও তথ্যভিত্তিক কনটেন্ট রাইটার। বাংলাদেশের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, সবজি, ফলমূল, চাল-ডাল, মাছ-মাংসসহ বিভিন্ন পণ্যের দৈনিক ও সাপ্তাহিক বাজারদর সংগ্রহ ও প্রকাশ করি। সাধারণ মানুষের কাছে সঠিক ও আপডেট বাজার তথ্য সহজভাবে পৌঁছে দেওয়াই আমার মূল লক্ষ্য।
দৈনন্দিন বাজারের আপডেট পেতে ওয়েবসাইট নিয়মিত ভিজিট করুন।